শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

রুশ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ জেনারেলদের হত্যায় ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

 

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার জেনারেলদের অবস্থান সম্পর্কে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, যে তথ্যের মাধ্যমে কিয়েভ মস্কোর জেনারেলদের হত্যা করতে সক্ষম হয়— এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। খবর এনডিটিভির।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, এটি সত্য যে, ইউক্রেনের বাহিনীকে ‘তাদের দেশ রক্ষায় সহায়তার জন্য’ যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে।
‘তবে, আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে শীর্ষ সামরিক নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করি না বা ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কোন বিষয়কে লক্ষ্যবস্তু বানাবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অংশ নিই না’, যোগ করেন কিরবি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বুধবার জানিয়েছে, ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর ওই গোয়েন্দা তথ্যই ইউক্রেনকে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ান অনেক জেনারেলকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যা করতে সাহায্য করে।
খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র্রের তথ্য পেয়ে অন্তত ডজনখানে রুশ জেনারেলকে হত্যা করতে সক্ষম হয় ইউক্রেনের সেনারা।

কিরবি বলেন, কোনো রুশ নেতার ওপর হামলা করবে কি করবে না তা ইউক্রেন নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়।
হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি) নিউ ইয়র্ক টাইমসের এ প্রতিবেদনটিকে ‘দায়িত্বহীন’ উল্লেখ করে সমালোচনা করেছে।
এনএসসির মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেন, ইউক্রেন যেন নিজেকে রক্ষা করতে পারে সেজন্য সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য সরবরাহ করে। আমরা রাশিয়ার জেনারেলদের হত্যার লক্ষ্য নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করি না।
এদিকে এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ন্যাটোভুক্ত অন্য দেশগুলো ইউক্রেনকে ‘ধারাবাহিকভাবে’ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে কিন্তু এ সহায়তা সেখানে মস্কোর সামরিক্ষ লক্ষ্য অর্জন থামাতে পারবে না।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনী ভালোভাবে অবগত যে— যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ন্যাটো ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। আর ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের অস্ত্র সহায়তা ‘রাশিয়ার অভিযান দ্রুত শেষ করতে অবদান রাখবে না’ এবং একই সময়ে তা লক্ষ্য অর্জনেও বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে না।
এ বিষয়ে রাশিয়া কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, এ পরিস্থিতিতে যা প্রয়োজন রাশিয়ার সেনাবাহিনী তা করবে।
রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই কিয়েভকে বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এসব অস্ত্র কীভাবে চালানো হয় তা শেখানো হয়েছে দেশটির সেনাদের। ওয়াশিংটন স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য, ইলেকট্রনিক নজরদারি কার্যক্রম ও অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যও কিয়েভকে সরবরাহ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা