শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

বরিশালে লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রী

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। শুক্রবার বরিশাল নৌ বন্দর এবং নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বরিশাল-কাঁঠালবাড়ি রুটের বাস কাউন্টরে রয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। শুক্রবার বিকেল ৪টার পর থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে বরিশাল নৌবন্দরে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ ঢাকাসহ কর্মস্থলমুখী হয়েছেন। অপরদিকে শুক্রবার দুপুরে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দেখা গেছে স্রোতের মতো যাত্রীরা আসছেন কর্মস্থলে ফিরতে।

বরিশাল নৌবন্দর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থেকেই ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ নৌপথে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম ছিল। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের পদাচারণায় মুখর হয়ে উঠে বরিশাল নৌবন্দর। জুম্মার নামাজের পর ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের লঞ্চগুলোর ডেকে যাত্রীরা নিজ নিজ জায়গা নিয়ে লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় থাকেন। কেবিন বুকিং দিয়ে রাখা যাত্রীরাও বিকেল ৩টার পর লঞ্চে আসতে শুরু করেন।

ঈদের পরদিন বুধবার ছুটি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার লঞ্চে তেমন যাত্রীচাপ ছিল না। ঘরে ফেরা বহু বেসরকারি কর্মজীবীর অফিস খুলবে শনিবার। তাই শুক্রবার যেন বাধভাঙা স্রোতের মতো যাত্রীর ঢল নেমেছে বরিশাল নৌবন্দরে। শুক্রবার সকালে অ্যাডভেঞ্চার-৬ নামের একটি ওয়াটার বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর দুপুর ২টায় ওয়াটার বাস গ্রীনলাইন এবং রাজারহাট- সি নামে অপর একটি লঞ্চ বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যায়।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় বরিশাল নৌবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ১১টি লঞ্চ বন্দরে নোঙ্গর করে আছে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য। ওই ১১টি লঞ্চের প্রায় প্রত্যেকটিই ছিল যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ। সবকটি লঞ্চের ডেক যাত্রীতে ঠাসা। যারা ডেকে স্থান পাননি তারা দুইতলা ও তিনতলার কেবিনের সামনে ফাঁকা জায়গায় চাদর বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। যে লঞ্চগুলো শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য বরিশাল নৌবন্দরে নোঙর করা ছিল, সেগুলো হচ্ছে- অ্যাডভেঞ্চার- ১, মানামী, পারবত- ৯, ১০ ও ১৮, সুরভী-ম ৮ ও ৯, সুন্দরবন- ১০, কীর্তণখোলা- ১০ ও ২, কুয়াকাটা- ২ এবং ভায়া লঞ্চ পূবালী- ৭ ও সুন্দরবন- ১২।

সুন্দরবন- ৯ লঞ্চে উঠেছেন বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামের জি.এম মিজানুর রহমান। গাজীপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, ‘শনিবার অফিস খুলবে, তাই আজ (শুক্রবার) ঢাকায় রওনা হয়েছি। সকালে সদরঘাট নেমে গাজীপুর যাবো। শনিবার অফিস করতেই হবে’। মিজানুর বলেন, ঘাটে ১১টি লঞ্চ, তারপও কোন লঞ্চই ফাঁকা নেই। বারান্দায়ও যাত্রীরা চাদর পেতে জায়গা নিয়েছেন ঢাকা যাওয়ার জন্য। যাত্রীদের এরকম চাপ শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন- ১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. হারুন খান।

এদিকে রোভার স্কাউটের সদস্যরা যাত্রীদের শৃঙ্খলাভাবে বন্দরে প্রবেশ এবং লঞ্চে ওঠার কাজ তদারকি করছেন। নৌ পুলিশের বরিশাল নৌবন্দর থানার পরিদর্শক মো. হাসানাত জামান বলেন, সকল সংস্থার সঙ্গে সমম্বয় করে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ কাজ করছে। কোনো লঞ্চে যাতে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। নৌবন্দরে পল্টুন সংকট রয়েছে। তাই যাত্রীচাপে পল্টুনে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ন পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের আগে ও পরের ১০দিন ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বাল্কহেড চলাচল না করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। নৌবন্দর সমম্বয় কমিটির সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে যাত্রীদের ভালমন্দ দেখভাল করছেন। কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করতে দেওয়া হবে না। যে লঞ্চ যাত্রীপূর্ণ হবে সে লঞ্চকে তাৎক্ষণিক ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।

কাঁঠালবাড়িমুখী যাত্রীচাপ:

বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শুক্রবার দুপুর ১২টায় গিয়ে দেখা গেছে, বরিশাল-কাঁঠালবাড়ি রুটের যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। সকাল থেকেই কাউন্টারের সামনে দীর্ঘলাইন দিয়ে টিকেট কাটছেন যাত্রীরা। একাধিক যাত্রী বলেছেন, লাইনে দাড়িয়ে দেড়-দুইঘনণ্টা পর তারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

ঢাকার যাত্রী ফরহাদ হোসেন মোল্লা বলেন, শনিবার সকাল ৯টায় অফিসে যেতে হবে। তাই শুক্রবার রাতের মধ্যেই ঢাকা পৌঁছাতে তিনি সড়কপথে রওনা হয়েছেন। সকাল ১১টায় টার্মিনালে এসে ১২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও টিকেট পাননি ফরহাদ মোল্লা। তিনি আরও বলেন, আরও ১ ঘণ্টা লাগতে পারে টিকেট পেতে। অপর এক যাত্রী মজিবর রহমান আকন বলেন, কাঁঠালবাড়ি রুটে আজ হঠাৎ যাত্রীচাপ বেড়েছে। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নিতে হচ্ছে।

বরিশাল-কাঠালবাড়ি রুটের বিএমএফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান নয়ন বলেন, আজ সকাল থেকে যাত্রীচাপ বেশি। তাই বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা