মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোষণা :

মাইকেল মদুসূদন দত্তের ১৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

মোঃ কামরুজ্জামন (টুলু)ঃ

বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রূপকার মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্তের ১৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ । তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কলকাতার এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল। মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদনের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ছোটবেলা থেকেই অসাধারন প্রতিভার অধিকারী মধুসূদন জীবনের প্রথম অংশে ছিল ইংরেজি ভাষার প্রতি মোহ। এ মোহ থেকেই জীবনের যৌবনে বিলেতে গমন করেন এবং তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহন করে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। সেখানে সুবিধা করে উঠতে না পেরে এবং দারিদ্রতা কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে জীবনের দ্বিতীয় পর্বে নিজের মাতৃভাষার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। এই সময়েই তিনি বাংলায় সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং নাটক, প্রহসন ও কাব্য রচনা করতে শুরু করেন। মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
মধুসূদন দত্ত নাট্যকার হিসেবেই প্রথম বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পণ করেন। ‘রত্নাবলী’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব বোধ করেন। এই অভাব পূরণের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নাটক লেখায় আগ্রহী হয়েছিলেন। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রচনা করেন দুটি প্রহসন যথা: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং পূর্ণাঙ্গ ‘পদ্মাবতী’ নাটক। পদ্মাবতী নাটকেই তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অমিত্রাক্ষরে লেখেন ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য। এরপর একে একে রচিত হয় ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ (১৮৬১) নামে মহাকাব্য, ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬১), ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক (১৮৬১), ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬২), চতুর্দশপদী কবিতা (১৮৬৬) প্রমুখ।
বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বাঙ্গালী সাহিত্যপ্রেমীরা তাকে সারা জীবন স্বরণ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা